বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
রবিউল আলম,স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের পদহারবাইদে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা এবং এতে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক মো. মইনুল ইসলাম পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মো. সোরহাব হোসেন, মো. এনামুল, মো. মাহাবুল, মো. শুভ ও আইনাল হকসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূবাইল থানাধীন পদহারবাইদ মৌজায় বাতেন মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে মইনুল ইসলামের ক্রয়কৃত প্রায় পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। জমিটি দেখাশোনা করেন তাঁর নিকটাত্মীয় মো. সালাউদ্দিন সরকার।
অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। এতে সালাউদ্দিন সরকার বাধা দিলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গালিগালাজ, কিল-ঘুষি মেরে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সালাউদ্দিন সরকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি মুঠোফোনে জমির মালিক মইনুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মইনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে মইনুল ইসলাম পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা বন্ধ, ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মইনুল ইসলাম বলেন, “জমিটি আমার ক্রয়কৃত ও মালিকানাধীন। আমার অনুমতি ছাড়া সেখানে মাটি কেটে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমি অভিযোগ করেছি। বাধা দেওয়ায় আমার আত্মীয়কে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোরহাব মুঠো ফোনে বলেন, আমি স্থানীয়ভাবে বিচার-শালিস করে থাকি। এনামুল ও শুভর অনুরোধে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, জমির মালিকের সঙ্গে সমন্বয় না করেই রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ ও সাবেক কাউন্সিলর সুলতান উদ্দিন কাজ বন্ধ করতে বলেন। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। তবে আমি কাউকে মারধর বা হুমকি দিইনি।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। জমির মালিকানা, রাস্তা ব্যবহারের অধিকার এবং মারধর ও হুমকির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।